• শিশুর পেটে যন্ত্রণা

    শিশুর পেটে যন্ত্রণা

  • 1

শিশুর পেটে ব্যাথা একটা সাধারণ সমস্যা, যার লক্ষণ হলো অত্যধিক কাঁদা ও স্থির না হতে পারা, বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে। শিশুটিকে প্রায়শই দেখা যেতে পারে যে সে তার পা’গুলি পেটের দিকে টেনে আনছে, যেন তার খুব যন্ত্রণা হচ্ছে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে যে কিছু বাচ্চার পেটে যন্ত্রণার একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ল্যাকটেজের অস্থায়ী অভাব। মনে করা হয় যে এটা হলো শিশুর অপরিণত পাচনতন্ত্র নিয়ে জন্ম নেওয়ার ফলাফল, যার ফলে ল্যাকটোজকে হজম করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ল্যাকটেজ এনজাইম উৎপাদন করতে পারে না। আপনার শিশু যদি ল্যকটোজ হজম করতে সক্ষম না হয়, তাহলে তাকে মায়ের দুধ খাওয়া বা চিজ বা দইয়ের মতো ডেয়ারি পণ্য খাওয়ার মোটামুটি 30মিনিটের মধ্যে তার ডাবেরিয়া, পেটে খিঁচ ধরা, পেট ফোলা বা গ্যাস হতে পারে।

শিশুর পেটে ব্যাথা ও ল্যাকটোজ হজম না হওয়ার সমস্যাকে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ উপায়ে সামলানোর উপায় হিসেবে ভারতে প্রথম বারের জন্য ইয়ামু ড্রপ (ল্যাকটেজ এনজাইম ড্রপ) পেশ করা হয়েছে, যা ল্যাকটোজকে ভাঙতে সাহায্য করে এবং এইভাবে ল্যাকটোজ হজম না হওয়ার উপসর্গ দূর করায় সহায়ক হয়।

আপনার বাচ্চার যদি ল্যাকটোজ হজম না হওয়ার উপসর্গ থাকে, তাহলে এখনই ডাক্তারকে দেখান। ডায়েরিয়া খুবই মারাত্মক কারণ এ থেকে ডিহাইড্রেশনের মতো গুরুতর সমস্যা হতে পারে যে সমস্যায় অবিলম্বে নজর দেওয়া জরুরী।

বাচ্চা যেমন যেমন বড় হবে স্বাভাবিকভাবে ল্যাকটেজ এনজাইম উৎপাদনের মাত্রা বাড়তে পারে আর বাচ্চাটার বয়স যখন 3-4মাস হবে সে ল্যাকটোজ হজম না হওয়ার উপসর্গ (এবং তার পেটে যন্ত্রণা) বেশিরভাগটাই কেটে যায়।

অনেক মা-বাবাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন এবং অত্যধিক কাঁদে যে বাচ্চা তাকে সামলাতে নাজেহাল হয়ে যান

পেটে ব্যথার লক্ষণ

পেটে যন্ত্রণার মুখ্য উপসর্গগুলি হলো:

  • স্পষ্ট কোনো কারণ ছাড়া এবং বাচ্চাকে চুপ করানোর বারংবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও দীর্ঘক্ষণ ধরে বাচ্চার কেঁদে যাওয়া, কখনও কখনও বাচ্চা তারস্বরে চিৎকার করতে থাকে। উপসর্গগুলি প্রত্যেক দিন একই সময়ে হতে পারে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুপুরে বা সন্ধ্যার দিকে এবং খাবার খাওয়ার পরই।
  • বাচ্চার পেটে অত্যাধিক গ্যাস হওয়ার লক্ষণ দেখা যেতে পারে অথবা পেট ফুলে যেতে পারে এবং দেখে শক্ত মনে হবে। কাঁদার সময় বাচ্চা পেটে যন্ত্রণার লক্ষণ দেখাতে পারে যেমন হাঁটুদুটো বুকের দিকে তোলা, মুঠো বন্ধ করা, হাত পা ছোঁড়া অথবা ধনুকের মতো বেঁকে যাওয়া
  • বাচ্চার প্রায়শই ঘুম আসে না, বিরক্ত হবে বা খিটখিটে হয়ে যাবে।
  • পেটে যন্ত্রণা নির্ণয় করতে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা প্রায়শই ‘রুল অব থ্রি’ ব্যবহার করে। ‘‘একটা বাচ্চা যে প্রতিদিন তিন ঘন্টা বা তার বেশি সময় ধরে কাঁদে, সপ্তাহে অন্তত তিনবার কাঁদে আর প্রথম তিন মাস পর্যন্ত কাঁদে।’’ বিশ্বজুড়ে প্রায় 25% বাচ্চার পেটে ব্যথার মেডিক্যাল ডায়গনোসিসের জন্য সরকারী ‘রুল অব থ্রি’ মাপকাঠি অনুসারে সত্য বলে প্রমাণিত।

ল্যাকটেজ এনজাইম ড্রপ কীভাবে পেটে যন্ত্রণা হয় যে শিশুর তাকে সাহায্য করে?

ভারতে প্রতিষ্ঠিত কিছু ব্র্যান্ড আছে যা প্রাকৃতিক উপায়ে নিরাপদ ল্যাকটেজ এনজাইম রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি করে। ইয়ামু সেগুলিরই একটা।

শিশুর পেটে যন্ত্রণা নিবারণে ইয়ামু ড্রপ একটা নিরাপদ এবং প্রাকৃতিক উপায়। এটা কোনো ওষুধ নয় বরং এটা হলো একটা প্রাকৃতিক এনজাইম যা শিশুর খাবারে ল্যাকটোজের মাত্রা কমাতে খাওয়ার আগে দেওয়া যেতে পারে।

ইয়ামু ড্রপ দিলে বাচ্চার পাচনতন্ত্রে সম্ভাব্য অস্থায়ী ল্যাকটেজ ঘাটতি পূরণ হতে পারে। ইয়ামু ড্রপ খাবারে ল্যাকটোজের মাত্রা দারুণভাবে কমায়, তাতে ল্যাকটোজকে সহজভাবে হজম করতে সাহায্য পাওয়া যায় এবং ল্যাকটোজ হজম না হওয়ার সমস্যা চলে যায়। তবে এটা গুরুত্বপূর্ণ যেন সমস্ত ল্যাকটোজই রূপান্তরিত না হয়ে যায় যাতে বাচ্চার শরীর তার নিজস্ব ল্যাকটেজ তৈরি হতে পারে এবং বাস্তবে সময়ের সাথে সাথে তার উৎপাদন বাড়ে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে যে শিশুর সাধারণ দুধে ল্যাকটেজ সম্পূরক মেশালে তার পেটে যন্ত্রণার সমস্যা রয়েছে এমন বাচ্চার কান্না প্রায় 45% কমে যেতে পারে।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইয়ামু ড্রপ ব্যবহার করে মা স্তন্যপান চালিয়ে যেতে পারেন তার বাচ্চার ল্যাকটোজ হজমে সমস্যা থাকলেও, এটা মা ও শিশু উভয়ের পক্ষেই উপকারী।

বাচ্চা যদি অত্যধিক কাঁদে কিন্তু বাচ্চাটা এমনিতে সুস্থই, তাহলে হতে পারে ল্যাকটোজ হজম না হওয়ার কারণে বাচ্চাটা কাঁদছে কারণ 1 থেকে 6মাসের মধ্যে বাচ্চা পর্যাপ্ত পরিমাণে ল্যাকটেজ এনজাইম উৎপাদন করতে পারে না। এই ধরনের ক্ষেত্রে মা-বাবা এক সপ্তাহের জন্য ল্যাকটেজ থেরাপি (ইয়ামু ড্রপ)-এর ট্রায়াল করতে পারেন। আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা – এনআইসিই-2014 (দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেল্থ অ্যান্ড কেবার এক্সেলেন্স)-ও এই একই সুপারিশ করেছে। ল্যাকটেজ থেরাপিতে কাজ হলে, 4 থেকে 6মাস পর্যন্ত এটা চালানো যেতে পারে, তারপর বাচ্চা পর্যাপ্ত পরিমাণে ল্যাকটেজ উৎপাদন শুরু করে দেয়।

শিশুকে কীভাবে ইয়ামু ড্রপ দেওয়া হয়

ইবামু ড্রপ 15মিলিলিটারের বোতলে পাওয়া যায়। প্রত্যেক 1 মিলিলিটারে 600এফসিসি ল্যাকটেজ এনজাইম থাজকে।

শিশুদের জন্য ড্রপের ডোজ:
নির্দেশ I (স্তন্যপানের জন্য): বের করা স্তন্যদুগ্ধের কয়েক মিলি-র মধ্যে 4 থেকে 5 ফোঁটা ইয়ামু ড্রপ মেশান। শুরুর দিকে দুধে বেশি ল্যাকটোজ থাকে। কয়েক মিনটি অপেক্ষা করুন, এই মিশ্রণটা শিশুকে খাওয়ান এবং তারপর স্বাভাবিকভাবে স্তন্যপান করান।

নোট: শুরুর দিকে দুধে বেশি ল্যাকটোজ থাকে। তাই আমাদের সুপারিশ হলো কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে তারপর এই মিশ্রণটা শিশুকে খাওয়ানো এবং তারপর স্বাভাবিকভাবে স্তন্যপান করানোর। এই পদ্ধতিটি শিশুটির পাচনতন্ত্রে একটা ‘কোটিং’ তৈরি করে যা বাকি স্তন্যদুগ্ধকে স্বাভাবিকভাবে হজম করতে দেয়।

নির্দেশ II (ফর্মুলা/পশুর দুধ খাওয়ানোর জন্য): দুধ যখন গরম থাকে (30℃ থেকে 40℃) তখন শিশুকে খাওয়ানোর জন্য সেই দুধের 50মিলি-র মধ্যে 4 থেকে 5 ফোঁটা ইয়ামু ড্রপ দিন। 30মিনিট অপেক্ষা করুন, ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে ভালো করে মিশিয়ে বাচ্চাকে খাওয়ান।

নোট: 30মিনিট অপেক্ষা করার সুপারিশ করা হয়েছে কারণ ফর্মুলা আহার যাতে গোটা মিশ্রণে ভালোভাবে ল্যাকটোজ উপাদান মিশিয়ে দেয়। ল্যাকটেজ ড্রপ মেশানো ও 30মিনিটের অপেক্ষাপ প্রায় 80% ল্যাকটোজকে পরিবর্তিত করতে সাহায্য করে।